উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' কলামে প্রতিফলিত দুটি ধারণার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে 'ক' কলামে উপস্থাপিত নিজ দেশের প্রতি অনুরাগ, মমত্ববোধ দেশপ্রেমকে এবং 'খ' কলামের ভৌগোলিক ঐক্য, বংশগত ঐক্য, ভাষাগত ঐক্য উপাদানগুলো জাতীয়তা ধারণাটিকে উপস্থাপন করে। আর দেশপ্রেমের সাথে জাতীয়তা গভীর সম্পর্ক রয়েছে।জাতীয়তা হচ্ছে এক ধরনের মানসিক ধারণা এবং এক প্রকার সচেতনতা। জাতীয়তার ধারণা কোনো জনসমাজকে অন্য জনসমাজ থেকে পৃথক করে তোলে। একই ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক সান্নিধ্যের সূত্রে আবদ্ধ জনসমষ্টি যখন নিজেদের অন্য জনসমষ্টি হতে আলাদা মনে করে তখন সে জনসমষ্টিকে জাতীয়তা বলে। আর জাতীয়তা গঠনের জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করে হলো দেশের মানুষ দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা যা দেশপ্রেম হিসেবে পরিচিত।.জাতীয়তাবোধ থেকে দেশপ্রেমের সৃষ্টি হয় এবং জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেম উভয়ই একপ্রকার মানসিক ধারণা ও অনুভূতি। দেশের মাটি ও মানুষকে একাত্ম করে ভাবার অনুভূতি মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই অনুভব করে, কেননা জন্মসূত্রেই মানুষের সাথে জন্মভূমির সংযোগ গড়ে ওঠে। দেশপ্রেমে বলীয়ান ব্যক্তির কাছে নিজের দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই। তাই দেশের জন্য জীবন দিতেও নাগরিকরা পিছপা হন না। দেশপ্রেমে গড়ে উঠে ঐক্যবোধ, যা জাতীয়তাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। দেশপ্রেমের মাধ্যমেই নাগরিকদের মনে জাতীয়তাবোধ জন্মায়। জাতীয়তাবাদের বিকাশের জন্য নানা ধরনের উপাদান থাকা আবশ্যক। আবার, দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশও ঘটে এরূপ বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়েই। যেমন- বাঙালি জাতীয়তাবাদের, অন্যতম ভিত্তি হলো ভাষা। আর বাংলা ভাষার জন্য সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে সংঘটিত ভাষা আন্দোলন একাধারে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এভাবে এ উপমহাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূল নিয়ামক হিসেবে দেশপ্রেমকে নির্দেশ করা যায়।তাই বলা যায়, জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকে দেশপ্রেমের সৃষ্টি এবং কখনো কখনো দেশপ্রেম থেকে জাতীয়তাবোধের উৎপত্তি ঘটে। সুতরাং, দেশপ্রেম ও জাতীয়তা একই সূত্রে গাঁথা।
HSC Civics 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 1st Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' কলামে প্রতিফলিত দুটি ধারণার পারস্পরিক সম্পর্ক ব…
Sylhet · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর