উদ্দীপকে জাতীয়তাবোধ নামক মানসিক অনুভূতির কথা বলা হয়েছে।জাতীয়তা হলো একটি মানসিক ধারণা, যা কোনো নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য ও ঐক্যবোধ জাগ্রত করে এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও আনুগত্যের অনুভূতি তৈরি করে। এ মানসিক অনুভূতিই জাতীয়তা। জাতীয়তা বিভিন্ন কারণে গঠিত হতে পারে। ভাষা জাতীয়তাবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একই ভাষায় কথা বলা একটি জাতির মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান সহজ করে এবং তাদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বন্ধন তৈরি করে। একই ধর্মের অনুসারী হওয়া একটি জাতির মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বৃদ্ধি করে। ধর্ম তাদের মধ্যে একটি সাধারণ বিশ্বাস ও মূল্যবোধ তৈরি করে। আবার বংশগতভাবে একই সূত্রে আবদ্ধ হওয়া একটি জাতির মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টি করে। তারা নিজেদেরকে একটি বৃহত্তর পরিবারের অংশ মনে করে। জাতীয়তার অন্যতম উপাদান ভৌগোলিক সান্নিধ্য। একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাস করা একটি জাতিকে ভৌগোলিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করে। এছাড়া সাংস্কৃতিক ঐক্য, রাজনৈতিক ঐক্য, ঐতিহ্য ও রীতিনীতি প্রভৃতিও জাতীয়তার অনুভূতিকে স্থায়ী করে।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে জাতীয়তাবোধ নামক মানসিক অনুভূতির কথা বলা হয়েছে এবং ভাষা, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভৌগোলিক সান্নিধ্য, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঐক্য এবং মানসিক ঐক্য এর প্রধান উপাদান।