উপরের ছকে জাতীয়তা নামক প্রত্যয়কে নির্দেশ করা হয়েছে। জাতীয়তার সাথে জাতির অনেক বৈসাদৃশ্য রয়েছে।জাতীয়তা হচ্ছে জাতি গঠনের প্রাথমিক অবস্থা। আর জাতি হচ্ছে জাতীয়তার সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত পর্যায়। উভয় শব্দের উৎসগত অর্থ হলো একই বংশোদ্ভূত জনসমষ্টি। জাতীয়তা এক ধরনের মানসিক ধারণা, যেখানে জাতি একটি সক্রিয় ও বাস্তব রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন।জাতীয়তা গঠনের জন্য কতকগুলো সাধারণ সূত্রের মিল থাকতে হয়; যেমন- ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস প্রভৃতি। অন্যদিকে, জাতি গঠনের জন্য প্রয়োজন জাতীয়তাবোধ। জাতীয়তা জনসমাজ ও মানসিক চেতনা বা ঐক্য থেকে গড়ে ওঠে। আর জাতি জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমাজ, রাজনৈতিক সংগঠন ও স্বাধীনতা মিলে গড়ে ওঠে। জাতি হচ্ছে একটি সুসংহত ও স্বাধীন জনসমষ্টি। সাংগঠনিকভাবে জাতি স্বাধীন ও সার্বভৌম। কিন্তু জাতীয়তার মধ্যে কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। কেননা জাতীয়তার ধারণায় উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টি স্বাধীন হতে পারে, নাও হতে পারে। আর সার্বভৌমত্ব ছাড়া স্বাধীনতা অর্জন করা যায় না। জাতীয়তা এক ধরনের ঐক্যের অনুভূতি। জাতীয়তার রাজনৈতিক সংগঠন নেই। কিন্তু জাতি গঠনে রাজনৈতিক সংগঠন অপরিহার্য। জাতীয়তা খুব বেশি সুসংহত ও স্বাধীন নয়। কিন্তু জাতি খুব সুসংহত, স্বাধীন ও সার্বভৌম অথবা স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত। জাতীয়তার উৎপত্তি আধুনিককালে। অন্যদিকে, জাতির ধারণা অনেক পুরানো। জাতীয়তা হচ্ছে প্রাথমিক অবস্থা আর জাতি হচ্ছে এর পরিণত রূপ।