বর্তমানে জাতি গঠনের পেছনে ধর্মের গুরুত্ব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। প্রাচীন ও মধ্যযুগে ধর্মকে জাতি গঠনের প্রধান উপাদান হিসেবে মনে করা হতো। একই ধর্মে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্যের মানসিকতা গড়ে ওঠে। মুসলিম জাতি ও ইহুদি জাতি মূলত ধর্মের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল। গিলক্রিস্টের মতে, “ধর্মবিশ্বাসের পার্থক্য যেখানে প্রবল, সেখানে জাতিগত ঐক্য স্বল্পস্থায়ী হতে বাধ্য।” কিন্তু বর্তমানে জাতি গঠনে ধর্মের ওপর খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
ধর্মের ওপর ভিত্তি করে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু ধর্মীয় ঐক্য পাকিস্তানের দুটি অংশকে একত্রিত রাখতে পারে নি। পাকিস্তানের দুটি অংশ পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, ভৌগোলিক, মানসিক বা ভাবগত ঐক্য ছিল না। এজন্য শুধু ধর্মীয় ঐক্য পাকিস্তানকে অখণ্ড রাখতে পারে নি। একই ধর্মের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নামে দুটি আলাদা জাতি সৃষ্টি হয়েছে। আরব রাষ্ট্রগুলো একই ধর্মের অনুসারী। কিন্তু সেখানেও ভিন্ন ভিন্ন জাতীয়তা বিরাজমান। সুতরাং বলা যায়, জাতি গঠনে ধর্মের ভূমিকা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।