জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে বেশকিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় । উৎপত্তিগত দিক থেকে জাতি ও জাতীয়তা 'এক বিষয় মনে হলেও বর্তমানকালে পাথর্ক্য সূচিত হয়েছে। জাতীয়তা বলতে একই বংশ, ভাষা, সাহিত্য, রীতি-নীতি, আশা-আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদির বন্ধনে আবদ্ধ জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা নিজেদেরকে 'অন্যান্য জনসমষ্টি থেকে পৃথক মনে করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৯৫২ সালে সৃষ্ট জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালিরা যখন 'বাংলাদেশ' নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে তখনই জাতিতে পরিণত হয়। জাতীয়তার জন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজন না হলেও জাতি গঠনের জন্য তা আবশ্যক।
জাতি একটি সক্রিয় ধারণা, এটি রাজনৈতিক ক্রিয়াকর্মের ফল। অপরদিকে জাতীয়তা মূলত মানসিক অনুভূতি। যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জন্ম নেয়। ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্ম প্রভৃতির ঐক্যের ফসল হলো জাতীয়তা পক্ষান্তরে জাতি হচ্ছে জাতীয়তাবাদী চেতনারই ফসল। জাতি হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত জনসমষ্টি। আর জাতীয়তা গঠনে ভাবগত উপাদানই প্রধান। জাতীয়তা অধিকতর কম স্থায়ী। তার স্থায়িত্বের জন্য জাতি গঠন প্রয়োজন । কিন্তু জাতি অধিকতর স্থায়ী একটি জনসমষ্টি । জাতি গঠিত হলে জাতীয়তা ব্যতীত টিকে থাকতে পারে।