উদ্দীপকে জাতীয়তার ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐক্য উপাদানটি লক্ষ করা যায়।
ভাষা হলো মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। কোনো জনসমষ্টির সকল মানুষের ভাষা যদি একই হয় এবং তাদের সাহিত্যও যদি এক হয় তাহলে স্বভাবতই তারা নিজেদের মধ্যে দৃঢ় ঐক্য অনুভব করে এবং তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের সৃষ্টি হয়। এছাড়া একই জনসমষ্টির মধ্যে একই ধরনের আচরণ ও রীতিনীতি গড়ে উঠলে তারা নিজেদেরকে অন্য জনসমষ্টি থেকে স্বতন্ত্র মনে করে। আচরণ ও রীতিনীতিগত এ ঐক্য জনসমষ্টিকে। ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করে। উদ্দীপকে এ বিষয়েরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তাকে কেন্দ্র করে পূর্ববাংলার জনগণ দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দেয়। উক্ত আন্দোলনটি ছিল 'ভাষা আন্দোলন', যা বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব মানুষের কাছে স্পষ্ট করার মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটিয়েছিল। ভাষাকেন্দ্রিক এ জাতীয়তাবোধের ওপর ভিত্তি করেই ছয় দফা কর্মসূচি, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, অসহযোগ আন্দোলন প্রভৃতি পরিচালিত হয়। অবশেষে
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন ঘরে। এ থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকে জাতীয়তার 'ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐক্য' উপাদানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।