উদ্দীপকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ সৃষ্টির জন্য ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছিল ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। এ আন্দোলনের ফলে নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সম্পর্ক ও গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভাষাকেন্দ্রিক এই ঐক্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্দীপকে এ বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে ।
ভাষাকেন্দ্রিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালিত হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়লাভ, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, সংগ্রামী ছাত্র সমাজের ১১ দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়, ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণা এবং সর্বশেষ সুদীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন, এসব কিছুর পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদে উজ্জীবিত বাংলার জনগণ প্রতিটি আন্দোলনকে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সফল করেছে। গঠন করেছে একটি নতুন জাতি রাষ্ট্র 'বাংলাদেশ'। তাই বলা যায়, বাঙালি জাতীয়তাবাদ সৃষ্টিতে ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।