“কোনো রাষ্ট্র সৃষ্টিতে ঐ একটি উপাদান তথা ধর্মীয় উপাদানই যথেষ্ট নয়” – ড. জাকিরের এ বক্তব্যটি যথার্থ ।
যেসব উপাদান কোনো একটি জনসমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করে সেগুলোকে জাতীয়তার উপাদান বলা হয়। জাতীয়তার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রদার্শনিকরা জাতীয়তার একাধিক উপাদানের কথা বলেছেন। ভৌগোলিক ঐক্য, বংশগত ঐক্য, ধর্মীয় ঐক্য, ভাষা- সংস্কৃতিগত ঐক্য, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঐক্য, ভাবগত ঐক্য প্রভৃতি জাতীয়তার উপাদান হিসেবে ভূমিকা রাখে।
পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টিতে জাতীয়তার উপাদান হিসেবে ধর্মীয় ঐক্য ছিল প্রধান নিয়ামক। কেননা ইসলাম ধর্মীয় জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়েই পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল। ধর্মীয় ঐক্যসূত্রে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে জাতি রাষ্ট্র গড়ে উঠলেও একমাত্র ধর্মই উপাদান হিসেবে রাষ্ট্র সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট নয় । উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, চীন ও ভারত প্রভৃতি রাষ্ট্রের জনগণ বহু ধর্মে বিশ্বাসী হলেও, তারা এক জাতি। আবার একই ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও মুসলমানরা বহু জাতিতে বিভক্ত। ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটায় পাকিস্তান ভেঙে এর পূর্ব অংশ স্বাধীন বাংলাদেশ নামে আত্মপ্রকাশ করে ।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, রাষ্ট্র সৃষ্টির উপাদান হিসেবে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও তা একক উপাদান হিসেবে যথেষ্ট নয় ৷ রাষ্ট্র সৃষ্টিতে ধর্মীয় ঐক্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, ভাষা-সংস্কৃতির ঐক্য এবং ভাবগত মেলবন্ধন থাকা জরুরি।