উদ্দীপকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে জাতীয়তার ভাষাগত ঐক্য কাজ করছে। ভাষা জাতীয়তা গঠনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানুষের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন হল ভাষা। অভিন্ন ভাষায় আদান-প্রদান জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপায়। যেমন - যখন কোন জনসমাজে অন্তর্গত প্রায় সবাই একই ভাষায় কথা বলে এবং একই সাহিত্য সংস্কৃতিতে সমভাবে আকৃষ্ট হয়, তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তা বোধের উন্মেষ ঘটে। জার্মান দার্শনিক ফিকটে মনে করতেন যে, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির প্রধান অন্যতম উপাদান হলো ভাষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য। যদিও একথা সত্য যে একই ভাষাভাষী হওয়া সত্ত্বেও ইংরেজি, আরবি প্রভৃতি ভাষাভাষী অভিন্ন জাতীয়তা গঠন করতে সক্ষম হয়নি বরং আধুনিক বিশ্বে ভৌগলিক সীমানায় জাতীয়তা প্রধান নির্দেশক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ১৯৫২ সালের রচিত হওয়া জাতীয়তা বোধের চেতনা ভিত্তিতেই পরবর্তীতে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। এভাবে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে জাতীয়তাবোধে জনগণ স্বাধীনতা লাভ ও নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ পিছনে রয়েছে ভাষা নামক জাতীয়তার উপাদানটি। উদ্দীপকে বলা হয়েছে ১৯৪৮ -৫২ সালের পূর্ব পাকিস্তানের এক আন্দোলন গড়ে ওঠে। উক্ত আন্দোলন ধীরে ধীরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের রূপ নেয়। এক পর্যায়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে একটি দেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরূপ বর্ণনার মাধ্যমে স্পষ্ট ভাবে জাতীয়তার ভাষা নামক উপাদান টি প্রকাশ পেয়েছে। কারণ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যে তুই ও তার জন্ম হয় তা ছিল মূলত মাতৃভাষা বাংলার প্রতি ভালোবাসা। আর এই ভাষার মাধ্যমে গড়ে ওঠা জাতীয়তার মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।