উক্ত বিষয়ে তথা জাতীয়তাবাদ গঠনে উপাদান গুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয়তা হচ্ছে এক ধরনের মানসিক ধারণা এবং একপ্রকার সচেতনতা। জাতীয়তার ধারণা কোনো জনসমাজকে অন্য সমাজ থেকে পৃথক করে তোলে। একই ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক সান্নিধ্য সূত্রে আবদ্ধ জনগোষ্ঠীর যখন নিজেদের অন্য জনসমষ্টি হতে আলাদা মনে করে তখন সে জনসমষ্টিকে জাতীয়তা বলে। জাতীয়তা গঠনের প্রধান উৎপাদন হলো ভৌগোলিক ঐক্য। এটির গুরুত্ব এতই অধিক যে এর অভাবে অনেক জনসমষ্টি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে না এবং জাতীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না। বংশগত ঐক্য ও জাতীয়তা গঠনে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। বংশগত ঐক্য এমন এক সুদ দৃঢ ঐক্যবদ্ধ গড়ে তোলে যা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। জাতীয়তার অপর একটি উপাদান হল ধর্মীয় ঐক্য । জাতীয়তার ধারণা সৃষ্টি এবং তা জোরদার করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় একটি শক্তিশালী ঐক্য হিসেবে কাজ করে। এটি জাতীয়তাবাদ সৃষ্টির এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস।জাতীয়তার অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ঐক্য। এর মাধ্যমে ভাবের আদান-প্রদান ঘটে। আর অভিন্ন ভাষার ভাবের আদান-প্রদান জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবার অর্থনৈতিক ঐক্য মানুষকে জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত করে। কারণ জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ এক ও অভিন্ন হলেও তাদের মধ্যে সুদৃঢ় জাতীয়তার বন্ধন গড়ে ওঠে। আবার, ভাবগত ঐক্যজাতীয়তার সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ ভাগ্যত উপাদান ব্যতীত জাতীয়তার অন্যান্য উপাদানগুলো অনর্থ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, জাতীয়তা গঠনের প্রতিটি উপাদানই গুরুত্বপূর্ণ।আবার কোনো উপাদানই এককভাবে জাতি গঠনের জন্য অপরিহার্য নয়। তবে ভাবগত ঐক্য জাতীয়তা গঠনের জন্য একান্ত অপরিহার্য।