উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' এলাকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে যথাক্রমে 'জাতি' ও 'জাতীয়তা' এই দুটি ধারণার পার্থক্য বিদ্যমান।জাতীয়তা হলো একটি মানসিক সত্তা বা ভারগত ধারণা যেখানে জনগণ ভাষা, ধর্ম ও ঐতিহ্যের বন্ধনে নিজেদের অন্যদের থেকে আলাদা মনে করে। জাতি হলো জাতীয়তার পরবর্তী ও উন্নত রূপ যা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত এবং স্বাধীন। ফরাসি লেখক রেঁনান জাতীয়তাকে একটি মানসিক সত্তা এবং জাতিকে বাস্তব সত্তা বলে অভিহিত করেছেন।উদ্দীপকের 'ক' এলাকার মানুষ ভাষা ও সংস্কৃতিতে ঐক্যবদ্ধ এবং রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ায় তারা একটি 'জাতি' হিসেবে গণ্য। বিপরীতে, 'খ' এলাকার জনগণ দীর্ঘকাল একত্রে বসবাস করে এবং ভাষা-ধর্মে মিল থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত না হওয়ায় তারা কেবল 'জাতীয়তা' স্তরে অবস্থান করছে। অর্থাৎ, সংগঠনের উপস্থিতিতে 'ক' এলাকার জনগোষ্ঠী 'খ' এলাকা থেকে অনেক বেশি অগ্রসর ও সুসংহত।সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, জাতীয়তা হলো জাতি গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া। লর্ড ব্রাইসের মতে, জাতীয়তা যত দ্রুত রাজনৈতিক স্বাধীনতা - অর্জন করবে, তত দ্রুত এটি জাতিতে পরিণত হবে। 'খ' এলাকার মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য যখন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষায় রূপ নেবে এবং তারা সংগঠিত হবে, তখনই তারা 'ক' এলাকার মতো সার্বভৌম জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।