দেশপ্রেম ও জাতীয়তার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং একটি অন্যটির পরিপূরক। নিচে এদের নিবিড় সম্পর্ক আলোচনা করা হলো:
জাতীয়তা মূলত একটি মানসিক ধারণা। যখন একদল মানুষ ভাষা, ধর্ম, ইতিহাস বা ভৌগোলিক কারণে নিজেদের এক এবং অভিন্ন মনে করে এবং অন্যদের থেকে আলাদা ভাবে, তখন তাকে জাতীয়তা বলে। আর এই জাতীয়তাবাদের চেতনা থেকেই জন্ম নেয় দেশপ্রেম।
১. জাতীয়তার মূল ভিত্তি: জাতীয়তা ছাড়া দেশপ্রেমের কোনো শক্ত ভিত্তি থাকে না। যখন মানুষের মধ্যে 'আমরা এক জাতি'—এই বোধ কাজ করে, তখনই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশের প্রতি টান অনুভব করে।
২. রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করা: জাতীয়তাবোধ যখন দেশপ্রেমে রূপ নেয়, তখন মানুষ দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকে। জাতীয়তা যদি হয় একটি চারাগাছ, তবে দেশপ্রেম হলো তার জীবনীশক্তি যা রাষ্ট্রকে বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে।
৩. উন্নয়নের অনুপ্রেরণা: দেশপ্রেমিক নাগরিকই জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়। জাতীয়তা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, আর দেশপ্রেম সেই ঐক্যকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে।
পরিশেষে বলা যায়, জাতীয়তা হলো একটি পরিচয়, আর দেশপ্রেম হলো সেই পরিচয়ের প্রতি গভীর আবেগ ও আনুগত্য। এই আবেগহীন জাতীয়তা যেমন প্রাণহীন, তেমনি জাতীয়তাবোধহীন দেশপ্রেম কল্পনা করা যায় না। তাই বলা যায়, দেশপ্রেমের সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য ও নিবিড়।