উদ্দীপকের নাফিজ দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে নির্দ্বিধায় আত্মত্যাগ করেছিল, কারণ তার মধ্যে দেশপ্রেমের প্রবল অনুভূতি কাজ করেছে।
দেশপ্রেমের সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক গভীর। জন্মভূমির মাটি, আলো- বাতাস, অন্ন-জলের প্রতি মানুষের মমত্ব অপরিসীম। দেশপ্রেমের এই ধারণা বা অনুভূতি থেকেই জন্ম নেয় জাতীয়তাবোধ। জাতীয়তার ধারণাকে এজন্যই এক প্রকার মানসিক ধারণা বলা হয়। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক সান্নিধ্যতার সূত্রে আবদ্ধ জনসমষ্টি যখন নিজেদেরকে অন্য জনসমষ্টি হতে আলাদা মনে করে তখন সেই চেতনাকেই জাতীয়তা বলে। জাতীয়তার ভিত্তিতেই জাতি রাষ্ট্রের (Nation State) উদ্ভব ঘটে। সাধারণত একটি জাতি রাষ্ট্রের নিজস্ব পতাকা, জাতীয় সংগীত এবং অভিন্ন জাতীয় লক্ষ্য থাকে। দেশপ্রেম মানুষের অন্তরে সদা বহমান। তবে বিশেষ বিশেষ সময়ে বা পরিস্থিতিতে তা আবেগে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। যুগে যুগে জাতীয়তাবাদী নেতাদের অনেকেই তাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে জাতিরাষ্ট্র গঠন করেছেন। আবার কেউ কেউ নিজ রাষ্ট্রকে গতিশীল নেতৃত্ব প্রদান করে বিশ্ব দরবারে সুমহান মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
জাতীয়তার চেতনা ও দেশপ্রেমের জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, রাশিয়ার লেনিন, চীনের মাও সেতুং, ভিয়েতনামের হো চি মিন, তুরস্কের মোস্তফা কামাল পাশা, কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো প্রমুখ রচনা করেছেন দেশপ্রেমের অমরগাঁথা।
উপসংহারে বলা যায়, জাতীয়তা ও দেশপ্রেমের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। দেশপ্রেমের মূলেই রয়েছে জাতীয়তার চেতনা। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো উদ্দীপকের নাফিজ।