উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের নাগরিকরা রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করে বিধায় রাষ্ট্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি।স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের পরিপূরক। স্বাধীনতা ছাড়া সাম্য যেমন - অর্থহীন, তেমনি সাম্য ছাড়া স্বাধীনতাও বাস্তবে কার্যকর হয় না। একটির অনুপস্থিতিতে অপরটি বাধাগ্রস্ত হয়। ব্যক্তি ও সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভর, যখন সমাজে সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রে নাগরিকরা স্বাধীনভাবে প্রার্থী হতে ও ভোট দিতে পারে এবং সরকারি সুবিধা ভোগে সমান সুযোগ পায়। এই পরিস্থিতি সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক। কারণ, রাজনৈতিক অধিকার যখন সকলের জন্য উন্মুক্ত হয় এবং রাষ্ট্র কোনো বৈষম্য করে না, তখন সমাজে সমতার পরিবেশ তৈরি হয়। তবে এটিও মনে রাখা জরুরি যে, শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকলেই সাম্য নিশ্চিত হয় না। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত সুযোগ-সুবিধায়ও সমতা থাকা প্রয়োজন। যদি কোনো শ্রেণি বা গোষ্ঠী বাস্তবে এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে আইনি বা রাজনৈতিক অধিকার থাকলেও প্রকৃত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় না। তাই 'ক' রাষ্ট্রের পরিস্থিতি সাম্য প্রতিষ্ঠার একটি ভিত্তি তৈরি করলেও, তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয় তখনই যখন নাগরিকদের মধ্যে আর্থসামাজিক সাম্য নিশ্চিত হয়। স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও প্রার্থিতা নিশ্চিত করা সাম্যের পথ প্রশস্ত করে, তবে সেটির পরিপূর্ণতা নির্ভর করে বাস্তব সুবিধা বণ্টনের ওপর।অতএব, নাগরিক স্বাধীনতার সুযোগ থাকলে সাম্য প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা থাকে, তবে তা কার্যকর করতে হলে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।