মানবাধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত অধিকার, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বা অন্য কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। মানবাধিকার রক্ষার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। আইনের চোখে সবাই সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এই নীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিচার বিভাগকে কোনো প্রকার রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। মানবাধিকার রক্ষার জন্য বাক স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যেন তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং গণমাধ্যম যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। মানবাধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে মানুষকে 'তাদের অধিকার সম্পর্কে জানাতে হবে। এছাড়া জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বা অন্য কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সমাজে বৈষম্য দূর করতে হবে। দরিদ্রতা মানবাধিকারের একটি বড় বাধা। মানবাধিকার নিশ্চিত করতে নারীর ক্ষমতায়ন জরুরি। নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। মানবাধিকার রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দেশগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদারকি করতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে।পরিশেষে বলা যায়, মানবাধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, বাকস্বাধীনতা, শিক্ষা ও সচেতনতা, বৈষম্য দূরীকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের অধিকার রক্ষা, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, মানবাধিকার কমিশন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।