উদ্দীপকের রোহিঙ্গারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।মানুষ পৃথিবীতে জন্মগতভাবে যেসব সুযোগ-সুবিধার দাবিদার হয় এবং যা ছাড়া মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে না, সেসব সুযোগ-সুবিধা হচ্ছে মানবাধিকার। মানবাধিকার অধিকারেরই একটি বিস্তৃত রূপ, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আইনগত ও নৈতিক অধিকারগুলোর মধ্যে সেসব অধিকারকে মানবাধিকার বলা হয়, যা পৃথিবীর সকল মানুষ শুধু মানুষ হিসেবে দাবি করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে মানব পরিবারের সকল সদস্যের জন্য সহজাত, সর্বজনীন অধিকারই হলো মানবাধিকার।উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত, যা ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত ঘোষণাপত্রের পরিপন্থি। কেননা জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্বে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও শান্তির ভিত্তি হচ্ছে সব মানুষের সহজাত মর্যাদা ও সব অবিচ্ছেদ্য অধিকারের স্বীকৃতি। এর মাধ্যমে সকল মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অধিকারের সার্বজনীন স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত করার ঘটনাটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। কেননা উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, কাউকে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, দেশ ত্যাগে বাধ্য করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।