'গোলাপ গ্রুপ', রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে লিখেছে। "রাজনৈতিক অধিকার নাগরিকের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য"- আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।উদ্দীপকের গোলাপ গ্রুপ তাদের লেখায় বলেছে, “প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে সকল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রদানের পাশাপাশি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দিতে হবে।" এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অধিকারের রূপ প্রকাশ পেয়েছে।রাজনৈতিক অধিকার হলো এমন কিছু মৌলিক অধিকার, যার মাধ্যমে নাগরিকরা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ভোট দেওয়ার অধিকার, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার, আবেদন করার অধিকার ইত্যাদি। এ অধিকারগুলো নাগরিকদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলে।রাজনৈতিক অধিকার নাগরিকের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য -অপরিহার্য। কারণ, একজন নাগরিক যখন ভোট দেয়, তখন সে রাষ্ট্রের শাসক নির্বাচন করে এবং নিজের মতামত প্রকাশ করে। আবার যখন প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পায়, তখন সে রাষ্ট্র পরিচালনায় সরাসরি অংশ নিতে পারে। এভাবে রাজনৈতিক অধিকার মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে। একজন সচেতন নাগরিক শুধু ভোট দেয় না, বরং রাষ্ট্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে, সরকারের ভালো-মন্দ মূল্যায়ন করে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ বা আবেদন জানায়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা রাড়ে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হয়। তাছাড়া, রাজনৈতিক অধিকারের চর্চা নাগরিককে অনেক সচেতন করে। ফলে সে জানতে পারে, রাষ্ট্র কেমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে-এবং তা কতটা জনকল্যাণমূলক। এই সচেতনতা সমাজে ন্যায়ের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ করে তোলে।অতএব বলা যায়, রাজনৈতিক অধিকার নাগরিকের রাজনৈতিক 'সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য এবং এর মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠে।