"সোহেলের এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে শুধু সরকারের পক্ষ থেকেই নয়, বরং নাগরিকদেরও তাদের কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে হয়। নাগরিকরা তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে রাষ্ট্রের অগ্রগতি অনেকাংশেই ত্বরান্বিত হয়। একজন সৎ, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল নাগরিক রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
উদ্দীপকের সোহেল বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নিজেই উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছে। সে হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু ও মাছ চাষের মতো কৃষিনির্ভর উৎপাদনমূলক খাতে বিনিয়োগ করেছে এবং ঘাসের চাষ করেও প্রাণিসম্পদ খাতকে সহায়তা করেছে। এর ফলে শুধু নিজের কর্মসংস্থান নয়, বরং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনীতির প্রবাহে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সে - দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তদুপরি, সে আয়কর প্রদান করে রাষ্ট্রের রাজস্ব ভান্ডার সমৃদ্ধ করছে, যা রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার হয়। আমরা জানি, নাগরিক কর্তব্যের -মধ্যে আয়কর প্রদান একটি অন্যতম আইনগত ও অর্থনৈতিক কর্তব্য। সোহেল তা যথাযথভাবে পালন করে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার উদ্যোগ দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, বেকারত্ব কমায় এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।
সুতরাং বলা যায়, সোহেলের এই অর্থনৈতিক দায়িত্বশীলতা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার পথে একটি কার্যকর পদক্ষেপ। তার মতো নাগরিকরা যদি এরূপ দায়িত্বশীলতার পরিচা দেয়, তবে রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু দ্রুততরই হবে না, বরং তা টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়নে রূপ নেবে।