উদ্দীপকে বর্ণিত অধিকার তথা মানবাধিকার রক্ষায় সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা রকম করণীয় রয়েছে।মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের ভূমিকাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। যখন কোনো জনগোষ্ঠী তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং বৈশ্বিক মানবতার ওপরও আঘাত। তাই ব্যক্তির জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজকে সচেতন, সক্রিয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত গাজা নগরীতে চলমান সংকট মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও চলাচলের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার থেকে হাজারো মানুষ, বঞ্চিত হচ্ছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব বহুমাত্রিক। সর্বপ্রথম, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও চুক্তিগুলো অনুসরণ করে আক্রান্ত জনগণের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং যুদ্ধবিরোধী কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হতে পারে তাৎক্ষণিক করণীয়। পাশাপাশি, নির্যাতিত জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে জনমত গঠন ও গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়াও মানবাধিকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা যায়। সর্বোপরি, মানবাধিকারের বিষয়ে শিক্ষা, সচেতনতা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ এসব উদ্যোগ একটি সহনশীল সমাজ গঠনে সহায়ক।অতএব এটা বলা সমীচীন যে, মানবাধিকারের সুরক্ষা শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি আন্তর্জাতিক নৈতিকতার প্রশ্ন। রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত পদক্ষেপেই মানবিক বিপর্যয় রোধ এবং মানবতার কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।