অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে ব্যাখ্য করা হলো :
শুরুতে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:
রাজনৈতিক স্বাধীনতা : হ্যারল্ড জে. লাঙ্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে। রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা : অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি। লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তনপ্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।" অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।
"অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায় কারণ একটি দেশে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থাৎ অফুরন্ত এবং নিজেস্ব অর্থনৈতিক নির্ধারণ, অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপায় হলেও এটি হলো মাত্র একটি অংশ। রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে মূলত একটি দেশের শাসন করার এবং নির্ধারণ করার ক্ষমতা বোঝানো হয়েছে, কিন্তু এটি অনুভূতি করতে বা তার সৃষ্টি করতে সম্পূর্ণ হতে হলে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদি একটি দেশে একটি সরকার অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয় এবং অস্থিতিশীল হয়, তাদের কাছে রাজনৈতিক স্বাধীনতা কিংবা সাংবিদানিক শাসন সম্ভব হয় না। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া, একটি সরকার তাদের লক্ষ্যের প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ এবং সম্ভার না করতে সক্ষম হয় এবং এটি সুপারিশ্রী হয়নি যে, সমাজের সামাজিক এবং আর্থিক অবস্থা উন্নত করতে পারে। অতএব, এই বাক্য জাহির করছে যে, একটি দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সমর্থন করতে হলে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা উন্নত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।