কমল, ও লাবিবের বক্তব্যে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে। অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান।নাগরিক অধিকার হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত সেই সুবিধাসমূহ, যা নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক। আর কর্তব্য হলো রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি নাগরিকের দায়বদ্ধতা। একটি সুশৃঙ্খল ও সমবেত সমাজ গঠনে অধিকার ও কর্তব্য উভয়েরই গুরুত্ব অপরিসীম।। এই দুইটি ধারণা পরস্পরের পরিপূরক ও অবিচ্ছেদ্য।অধিকার ও কর্তব্য একই বিষয়ের দুটি দিক। একজন নাগরিক যেমন রাষ্ট্রের কাছ থেকে ভোটাধিকার, শিক্ষা, নিরাপত্তা ইত্যাদি পায়, তেমনি এই অধিকার বাস্তবায়নে কর প্রদান, আইন মান্য করা, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের মতো কর্তব্য পালন করতে হয়। যদি কেউ কর্তব্য পালন না করে, তবে তার অধিকারের দাবি ন্যায্যতা হারায়। এক ব্যক্তির অধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে অন্যের কর্তব্যও নির্ধারিত হয়, যেমন একজনের চলাচলের অধিকার মানেই অন্যের চলার সুযোগ সৃষ্টি করা। অধিকারের সীমা নির্ধারিত হয় কর্তব্যের দ্বারা, নইলে তা স্বেচ্ছাচারে পরিণত হতে পারে। অধিকার ও কর্তব্য সমাজের মধ্যেই বিকাশমান এবং উভয়ের লক্ষ্যই সামাজিক মঙ্গল সাধন। রাষ্ট্রের কাছ থেকে অধিকার পেতে হলে' নাগরিককে রাষ্ট্রীয় কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে হয়, যেমন কর প্রদান করে রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করা।সুতরাং বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। একটি ব্যতীত অপরটি অসম্পূর্ণ। তাই সচেতন নাগরিক হতে হলে উভয় ধারণা সমান গুরুত্ব দিয়ে মেনে চলা প্রয়োজন। তখনই সমাজ ও রাষ্ট্রে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব।