উদ্দীপকে বর্ণিত নারীর অধিকারসমূহ বাস্তবায়িত হলে সমাজে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উদ্দীপকে বর্ণিত মহান মে দিবসের বিশাল সমাবেশে উত্থাপিত দাবিগুলো মূলত নারীর অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি। যে অধিকারগুলো অভাব-অনটন ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষের জীবনকে সুখি, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদ করে তোলে সেগুলোই অর্থনৈতিক অধিকার। কর্মের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভের অধিকার প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
আমাদের সমাজে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কর্মের বাইরে রেখে বা উপযুক্ত পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নারীদের কর্মের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি প্রদান নিশ্চিত করা গেলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। দেশের অর্থনীতি উন্নত হবে। নারীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের সেবা করতে পারবে। এর ফলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর মর্যাদা, বৃদ্ধি পাবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে, নারী নির্যাতন ব্যাপকহারে হ্রাস পাবে এবং নারীদের সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কার ও নেতিবাচক ধারণা দূর হবে। পাশাপাশি সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। সাম্যের মাধ্যমে সকল নারী-পুরুষের জীবিকা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।
পরিশেষে বলা যায়, নারীদের অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে তারা যোগ্য সম্মান পাবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে। সর্বোপরি, একটি সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।