দ্বিতীয় বক্সে আইনগত অধিকারের কথা বলা হয়েছে। আইনগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত অধিকারসমূহ হলো— সামাজিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার, সাংস্কৃতিক অধিকার ইত্যাদি।
অধিকারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: আইনগত অধিকার ও নৈতিক অধিকার। রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত অধিকারকে আইনগত অধিকার বলা হয়। আইনগত অধিকারের পিছনে রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব থাকে। এ অধিকার ভঙ্গকারীকে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়। জীবনধারণের অধিকার, সম্পত্তি লাভের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি আইনগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। আইনগত অধিকারকে আবার কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন— সামাজিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার, সাংস্কৃতিক অধিকার ইত্যাদি।
সামাজিক অধিকার বলতে সেসব অধিকারকে বোঝায় যেগুলো সমাজে সভ্য জীবনযাপন করতে সাহায্য করে এবং যা জীবন সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য একান্তভাবে অপরিহার্য। জীবনধারণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অধিকার, সভা- সমিতির অধিকার, ধর্মীয় অধিকার, আইনের চোখে সমান অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার প্রভৃতি সামাজিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। রাজনৈতিক অধিকার হলো সেসব অধিকার যেগুলোর মাধ্যমে সুনাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে। ভোট প্রদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, আইনসভার সদস্য হওয়ার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। অর্থনৈতিক অধিকার হলো সেইসব অধিকার যেগুলো অভাব-অনটন ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষের জীবনকে সুখ- স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নিরাপদ করে তোলে।
অতএব বলা যায়, আইনগত অধিকার উপভোগের মাধ্যমেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশ সম্ভব হয়। তাই রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো নাগরিকদের অধিকার উপভোগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা।