হ্যাঁ, “ফরহাদ সাহেবের কর্মকান্ড সুনাগরিকতার অন্তরায়”— উক্তিটির সাথে আমি একমত।
সুনাগরিক বলতে সেই নাগরিককে বোঝায় যিনি বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযমের অধিকারী। তিনি ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ অনুধাবন করতে পারেন এবং রাষ্ট্রের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেন। যেমন— তিনি রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকেন, আইন মান্য করেন, যথাসময়ে কর প্রদান করেন, নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেন। অর্থাৎ সুনাগরিক তার মেধা, প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টির দ্বারা সকল নৈতিক ও আইনগত কর্তব্য পালন করেন এবং অপরকেও উদ্বুদ্ধ করেন। উদ্দীপকের ফরহাদ সাহেবের মধ্যে এসব গুণের একটিও লক্ষ করা যায় না।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, হাসনাত সাহেব নির্বাচনে ভোটদানের পাশাপাশি নিয়মিত কর প্রদান করেন। কিন্তু ফরহাদ সাহেব এসব বিষয়ে উদাসীন। এ থেকে বোঝা যায়, তার কর্মকাণ্ড সুনাগরিকতার অন্তরায়। কেননা, নির্বাচনে ভোটদান ও কর প্রদান নাগরিকের আইনগত কর্তব্য। একজন সুনাগরিক রাষ্ট্রের আইনগত কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে পালন করেন। আর যিনি তা পালন করবেন না তিনি সুনাগরিক হিসেবেও বিবেচিত হবেন না । অর্থাৎ ফরহাদ সাহেব সুনাগরিক নন। আবার, তার কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে যদি কেউ কর্তব্য পালনে অবহেলা করে তবে তা সুনাগরিকতার অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে।
পরিশেষে বলা যায়, নাগরিক অধিকার ভোগের বিনিময়ে যথাযথ কর্তব্য পালন না করলে সুনাগরিক হওয়া যায় না বলে ফরহাদ সাহেবের কর্মকাণ্ড সুনাগরিকতার অন্তরায়।