উদ্দীপকের "অধিকার তথা অর্থনৈতিক অধিকার যথাযথভাবে প্রদান ছাড়া রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।রাজনৈতিক সাম্য বলতে রাজনৈতিক অধিকার ভোগের ক্ষমতাকে বোঝায়। রাজনৈতিক অধিকার বলতে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার, সরকারি কাজে অংশগ্রহণের অধিকার, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার প্রভৃতি বোঝায়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-পেশা নির্বিশেষে এই রাজনৈতিক অধিকার লাভের সমান সুযোগ পেলে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।অন্যদিকে, যেসব অধিকার ব্যক্তিকে অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে অর্থনৈতিক জীবনের নিরাপত্তা বিধান করে তাকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। 'অর্থনৈতিক অধিকার রাষ্ট্রে ব্যক্তিকে তার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়। তাই ব্যক্তির মর্যাদা তথা নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা না পেলে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা হলো গণতন্ত্র। আর এ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো সাম্য। সমাজে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। আর এটি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। কারণ অর্থনৈতিক অধিকার ব্যতীত অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আর অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আয় ও ব্যয়ের চরম বৈষম্য দেখা দেয়। ফলে সমাজে ধনী ও দরিদ্র দুই শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ধনীরা আরও ধনী হয়ে যায়, আর গরিবরা মানবেতর জীবনযাপন করে। এমতাবস্থায় মানুষের মাঝে জন্ম নেয় অপরাধপ্রবণতা ও সমাজবিরোধী কর্মকান্ড। অভাবের তাড়নায় তারা নাগরিকত্বের দায়িত্ব-কর্তব্যও বিসর্জন দেয়। এ কারণে সমাজে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার আগে অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ অর্থনৈতিক অধিকার এবং রাজনৈতিক সাম্য একে- অপরের পরিপুরক। অর্থনৈতিক অধিকারের যথাযথভাবে প্রদান না করলে রাজনৈতিক সাম্যের প্রকৃত লক্ষ অর্জন করা সম্ভব নয়।
আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।