উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' দ্বারা চিহ্নিত অধিকারদ্বয় হলো সামাজিক অধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকার। উভয়ের মধ্যে বেশকিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের সম্পর্ক রয়েছে।সামাজিক অধিকার হলো যেসব অধিকারসমূহ, যা নাগরিকের সভ্য সামাজিক জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে, নাগরিক রাষ্ট্রীয় কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য যে সমস্ত অধিকার ভোগ করে, তাদের রাজনৈতিক অধিকার বলে। রাজনৈতিক ও সামাজিক উভয় অধিকার আইনগত অধিকার হওয়ায় উভয়ের আইনি ভিত্তি রয়েছে এবং এর খর্ব হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনের সাহায্যে প্রতিকার লাভ করতে পারে। তবে, সামাজিক অধিকারের উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের ন্যায়সংগত ও সম্মানজনক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা প্রদান, যেখানে রাজনৈতিক অধিকারের উদ্দেশ্য রাষ্ট্রীয় কাজে নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার-উভয়ই পরস্পরের সহায়ক ও সম্পূরক। শিক্ষিত ও সামাজিক নাগরিকরাই রাজনৈতিক অধিকারের ভিত্তি গড়ে তোলে।আবার, কার্যকর সরকারব্যবস্থা সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করে। সামাজিক অধিকার ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করে। আর রাজনৈতিক অধিকার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং জনমতের প্রতিফলন করে। অর্থাৎ, উভয় অধিকারের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কার্যকারিতা ব্যাপক এবং উভয়টিই মানবকল্যাণে নিয়োজিত। রাজনৈতিক অধিকারের উদাহরণ হলো- ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, মত প্রকাশের অধিকার, স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি। অন্যদিকে, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা লাভ, জীবনধারণের অধিকার, সম্পত্তি ভোগ প্রভৃতি সামাজিক অধিকারের উদাহরণ। স্পষ্টত, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের মধ্যে বেশ সাদৃশ্য থাকলেও ব্যাপক বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।