অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ। এ যেন একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। এ যেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পি ভিঞ্চির মুনালিসার ছবি উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখা। চাল না কিনে যেমন ভাতের আশা করা যায় না কর্তব্য পালন না করে তেমনি অধিকারের আশা করা যায় না।অধিকার ভোগের সাথে সাথে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। এসব দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধিত হয়। রাষ্ট্রের নাগরিকগণ যদি সবসময় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত অধিকার ভোগ করতে চায় এবং কোনো ধরনের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন না করে তাহলে রাষ্ট্র কখনই ব্যক্তিকে তার অধিকার প্রদান করতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি, একটি গ্রামের নাগরিকের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করানোর জন্য সে গ্রামে সরকার কর্তৃক স্কুল প্রতিষ্ঠা করে দেওয়া নাগরিকের অধিকার কিন্তু স্কুল সার্বিকভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভালোমন্দ বিষয়ে খোঁজখবর রাখা নাগরিকের কর্তব্য। নাগরিকরা যদি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, নিয়মিত কর প্রদান, দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিকে সাহায্য, সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন, ভোট প্রদান ইত্যাদি দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করে তাহলে তারা রাষ্ট্র থেকে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে। আর এসব সুযোগ-সুবিধাই হলো নাগরিকের অধিকার। কেননা অধিকার বিষয়টির সাথে সাথে নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়টি চলে আসে। আবার দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়টির সাথে নাগরিকের অধিকার বিষয়টি সম্পর্কযুক্ত। এ কারণেই অধিকার ভোগের সাথে সাথে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে আমরা বলতে পারি, শিক্ষা শেষ, চিকিৎসা নেই, জ্যাম আর জ্যাম, লোডশেডিং বলে চিৎকার করলাম অথচ কর দিলাম না; আর দিলেও ফাঁক ফোকর খুঁজে কীভাবে কম দেওয়া যায় তার অপচেষ্টার মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্য নিহিত নয়। বরং দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অধিকার হাতে এসে ধরা দেয়।