উদ্দীপকের দ্বারা কী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তুমি মনে কর? রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে এটি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্দীপকের দ্বারা ই-গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমি মনে করি। একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য ই-গভর্নেন্স অত্যন্ত জরুরি। নিম্নে ই- গভর্নেন্সের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হলো-১. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে: সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে ই-গভর্নেন্স অত্যাবশ্যক। ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থায় সরকারের সকল শাসন সংক্রান্ত বিষয় জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। ফলে কোথায় কী হচ্ছে, সরকার কী করছে তা জনগণ সহজেই জানতে ও বুঝাতে পারে। এজন্য ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থায় সরকার যা খুশি তাই করতে পারে না। সুতরাং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে ই-গভর্নেন্সের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।২. দুর্নীতি রোধে: দুর্নীতি সুশাসনের বড় বাধা। দুর্নীতি বলতে বোঝায় অবৈধ উপায়ে কাউকে কোনো সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া। ই- গভর্নেন্সে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। কেননা এই শাসন ব্যবস্থায় জনগণের সম্পৃক্ততা বেশি থাকে এবং জনগণ সচেতন থাকে। ফলে সরকারের কোনো সেক্টরে দুর্নীতি করার সুযোগ থাকে না। সুতরাং দুর্নীতি রোধে ই-গভর্নেন্সের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক।৩. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে: ই-গভর্নেন্সের একটি বিশেষ দিক হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা হয়। ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থায় আমলাদের পক্ষে গোপনে স্বার্থসিদ্ধি করা সম্ভব হয় না। সকল কর্মকাণ্ড সরকারের নখদর্পনে চলে আসে। ফলে আমলারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে। আর এর জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করে ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা।৪. অর্থনৈতিক উন্নয়নে: অর্থনৈতিক উন্নয়নে ই-গভর্নেন্সের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। এই শাসনব্যবস্থায় খুব সহজেই দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং অতনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে আর এই অর্থনৈতিক উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে ই-গভর্নেন্স।৫. সাম্য প্রতিষ্ঠায়: সাম্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ই- গভর্নেন্স। সাম্য অর্থ হলো সরকারি সুযোগ-সুবিধা সবার জন্য সমান। ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থায় ব্যক্তি তার যোগ্যতা অনুসারে সুযোগ- সুবিধা ভোগ করতে পারে আর এটি নিশ্চিত করে ই-গভর্নেন্স। এজন্য সাম্য প্রতিষ্ঠায় ই-গভর্নেন্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।এছাড়াও বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়ন, মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ, শাসনকার্যে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রাপ্তির সহজলভ্যতাসহ প্রভৃতি কাজে ই-গর্ভনেন্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।সুতরাং উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষাপটে বলা যায়, রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে ই- গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
HSC Civics 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 1st Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের দ্বারা কী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তুমি মনে কর? রাষ্ট্রীয় উন্…
উদ্দীপক
Barisal · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর