'ক' রাষ্ট্রের জনগণ কোন ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করছেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করছেন ব্যাখ্যা করা হলো : যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণ এবং উপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভ করাকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলা হয়। মূলত আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্তির জন্য নাগরিকরা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করে। এই স্বাধীনতা না থাকলে অন্যান্য স্বাধীনতা ভোগ করা যায় না। সমাজের অন্য শ্রেণির শোষণ থেকে মুক্ত থাকার জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রয়োজন। অর্থনৈতিলক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি। লাঙ্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।" অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হলো একটি রাষ্ট্রের অর্থনীতি যেখানে স্বয়ং নির্ধারিত হয় এবং সেই অর্থনীতির প্রবাহ এবং নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী এবং স্বায়ত্তশাসিত। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বোঝানোর জন্য মূলত তিনটি মৌলিক দিক আছে: 1. স্বায়ত্তশাসিত বা স্বয়ংনির্ভরশীলতা: এটি অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা এবং নিজের সম্পদ এবং সম্পত্তির উৎপাদনে নির্ভর করে বলে। একটি দেশ যদি নিজে তার অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে পারে এবং অন্যদের সাথে সম্পাদনে নিজের নিজেকে স্বায়ত্তশাসিত করতে পারে, তবে সেটি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে। 2. নির্ধারিত বা স্বয়ংনির্ধারিত বাজার চলাচল: এটি বোঝায় যে বাজার শক্তি, মূল্য ও সম্পত্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে এবং সম্প্রসারণে রাষ্ট্রের সীমা রেখেছে। এটি অর্থনীতির ক্ষেত্রে সরকারের অবদান ও সীমানাবদ্ধতা স্বীকৃত করতে সাহায্য করে। 3. স্বতন্ত্র মুদ্রার নীতি: অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বোঝায় যে একটি দেশ তার নিজস্ব মুদ্রা চালাচাল করতে সক্ষম এবং স্বায়ত্তশাসিতভাবে মুদ্রা নীতি নির্ধারণ করতে পারে। এই তিনটি দিকের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রাপ্ত হয় এবং এটি দেশের অর্থনীতির উন্নতি এবং সামরিক স্থিতির দিকে মাধ্যমিকভাবে প্রভাব ফেলে। যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণ এবং উপযুকত পারিশ্রমিক লাভ করাকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলে। উদ্দীপকে ক রাষ্ট্রের জনগণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান, ন্যায্যমজুরি প্রদান ও বেকারত্ব দূরীকরণ ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকার সংরক্ষণ করেন। ফলে মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশ সৃষ্টি হয়েছে। অন্য দিকে উপরের বিস্তারিত আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পাই ক রাষ্ট্রের জনগণ করা স্বাধীনতা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সাদৃশ্য তাই আমরা বলতে পারি ক রাষ্ট্রের জনগণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করছেন।
HSC Civics 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 1st Paper · সৃজনশীল
'ক' রাষ্ট্রের জনগণ কোন ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করছেন? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক
সোনার বাংলা কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর