দৃশ্যকল্প-২ এ মাহিমা ও হাবিবের ক্ষেত্রে একই রকম অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে আমি মনে করি না। কারণ মাহিমার ক্ষেত্রে নৈতিক অধিকার এবং হাবিবের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।
সমাজের নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের জন্ম হয়েছে। এই অধিকার লঙ্ঘনকারীকে কোনো শাস্তি প্রদান করা হয় না। যেমন- ভিক্ষুকের ভিক্ষা লাভ, মানবিক সাহায্য প্রাপ্তি ইত্যাদি। অপরদিকে, নির্বাচনের অধিকার, বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তাপ্রাপ্তির অধিকার, স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
দৃশ্যকল্প-২ এ দেখা যায়, দরিদ্র মাহিমা অসুস্থ হয়ে পড়লে তার প্রতিবেশী কিছু ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছে মানবিক সাহায্য চায়। কিন্তু তারা কেউ মাহিমার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি, যা নৈতিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। অপরদিকে হাবিব মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। হাবিব তার নিয়োগকর্তা কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হলে সে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করে। কিন্তু সে কোনো সাহায্য পায়নি, যা রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করার অন্তর্ভুক্ত। কেননা রাজনৈতিক অধিকার বলে একজন নাগরিক বিদেশে অবস্থানকালে বিপদে পড়লে নিজ রাষ্ট্রের সাহায্য কামনা করতে পারে। আর নাগরিককে সহায়তা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হাবিবকে এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, একজন নাগরিকের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য নৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় অধিকারই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মাহিমার ক্ষেত্রে নৈতিক অধিকার এবং হাবিবের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে, যা কাঙ্ক্ষিত নয়।