'খ' দেশের জনগণ সমমর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের পরিপূর্ণ সুযোগ পাচ্ছে। তাই 'সুশাসন প্রতিষ্ঠায় 'খ' দেশের অবস্থা সহায়ক'—উক্তিটি যথার্থ।
'খ' রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যাবলি বিচারে বলা যায়, এ রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং মানবাধিকার স্বীকৃত। কেননা মানবাধিকার স্বীকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই জনগণ সমমর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের পরিপূর্ণ সুযোগ পায়। আর এরূপ রাষ্ট্র সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণের ক্ষমতায়ন ঘটে। এতে জনকল্যাণের বিষয়টি গুরুত্ব পায় যা সুশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তাই সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রয়োজন।
মানবাধিকার হলো সমাজ জীবনের সেসব শর্ত যা ব্যতীত মানুষ তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ সাধন করতে পারে না। এছাড়া মানবাধিকার মানুষের মর্যাদা ও পরিচিতিকে স্বীকৃতি দেয়। মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার প্রথম অনুচ্ছেদে মানবীয় অধিকার, মর্যাদার সমতা ও স্বাধীনতার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণায় সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দারিদ্র্য নিরসন ও অভাব মোকাবিলা, বাসস্থান লাভ, স্বাস্থ্য সুবিধা, শিল্প ও বিনোদনের সুযোগ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তার নিরাপত্তা লাভের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। মানবাধিকারের এ বিষয়গুলো সুশাসনেরও লক্ষ্য। তাই যে রাষ্ট্রে মানবাধিকার স্বীকৃত, সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠাও সহজ।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং মানবাধিকারের স্বীকৃতি সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি। তাই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং মানবাধিকার স্বীকৃত 'খ' দেশের অবস্থা নিঃসন্দেহে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।