উদ্দীপকে বর্ণিত রহিমা অর্থনৈতিক অধিকার হতে বঞ্চিত হয়েছে।যে অধিকার ব্যক্তিকে অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে অর্থনৈতিকনিরাপত্তা বিধান করে তাকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। যেমন: যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়া এবং ন্যায্য মজুরি লাভ প্রত্যেক নাগরিকের অন্যতম অর্থনৈতিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত।উদ্দীপকে উল্লিখিত করিম ও রহিমা চাচাতো ভাইবোন। তারা একসাথে একটি ফ্যাক্টরিতে একই ধরনের কাজ করে, কিন্তু করিম রহিমার চেয়ে বেশি মজুরি পায়। অর্থাৎ রহিমা করিমের সমান কাজ করেও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হয়; যা অর্থনৈতিক অধিকার হতে বঞ্চিত হওয়াকে নির্দেশ করে। এ বিষয়টি নিবারণের উপায়সমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো; প্রথমত, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের যোগ্যতা অনুযায়ী সমান সুযোগ-সুবিধা ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।তৃতীয়ত, নাগরিকগণ যে সকল মৌলিক অধিকার ভোগ করবে, সেগুলো দেশের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ সেসব অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে আদালতের মাধ্যমে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে পারবে।চতুর্থত, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। এ ব্যবস্থায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নাগরিকগণ তাদের অধিকার সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়।পঞ্চমত, যেকোনো অধিকার বঞ্চনা নিবারণের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের সজাগ দৃষ্টি। প্রত্যেক নাগরিক নিজের অধিকার সম্পর্কে সজাগ ও সচেতন হলে কোনো শক্তিই নাগরিকের অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের রহিমা তার চাচাতো ভাই করিমের সমান কাজ করেও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে এ ধরনের অর্থনৈতিক বৈষম্য নিবারণ করা যাবে।