ছকে উল্লেখিত অধিকারগুলো ভোগের মাধ্যমে একজন নাগরিক রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি সব ধরনের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করতে পারবে বলে আমি মনে করি ।
অধিকার ও কর্তব্য নাগরিকতার দুটি দিক। নাগরিকের যেমন অধিকার আছে তেমন কর্তব্যও আছে। তাই আইনগত অধিকার ভোগ করার পাশাপাশি নাগরিকদের বেশকিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। আলোচ্য ছকে নির্দেশিত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারগুলো মূলত আইনগত অধিকারেরই শ্রেণিবিভাগ। এসব অধিকার ভোগ করার পাশাপাশি নাগরিকগণ বেশকিছু নৈতিক ও আইনগত কর্তব্যও পালন করবে।
নাগরিকদের নৈতিক কর্তব্যের মধ্যে রয়েছে ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া, দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিকে সাহায্য করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, বিশ্বমানবতার সাহায্যে এগিয়ে আসা ইত্যাদি। আইনগত কর্তব্যের আবার কিছু ভাগ রয়েছে-সামাজিক কর্তব্য, রাজনৈতিক কর্তব্য ও অর্থনৈতিক কর্তব্য। পরিবার, সন্তান ও সমাজের প্রতি কর্তব্য, সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন করা, সামাজিক নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্য প্রদর্শন করা ইত্যাদি হলো নাগরিকদের সামাজিক কর্তব্য। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা, রাষ্ট্রের আইন মেনে চলা, ভোটাধিকার প্রয়োগে সৎ থাকা, রাষ্ট্রের কল্যাণে সেবামূলক কাজ করা, সরকারি কাজ যথাযথভাবে পালন করা, জাতীয় সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করা ইত্যাদি হলো নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্য। এছাড়া নাগরিকরা বেশকিছু অর্থনৈতিক কর্তব্যও পালন করবে। যেমন-খাজনা ও কর প্রদান করা ব্যবসায়-বাণিজ্য করা, কৃষি উৎপাদনে অংশগ্রহণ করা শিল্পকারখান গড়ে তোলা, জনকল্যাণে অর্থের যোগান দেওয়া ইত্যাদি। অধিকার ভোগোর মাধ্যমে নাগরিকরা এসব দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবে বলে আমি মনে করি।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, নাগরিকরা রাষ্ট্রস্বীকৃত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করার মাধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি সব ধরনের কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ হয়।