ছকে আলোচিত 'ক' সরকারটি হলো সংসদীয় সরকারব্যবস্থা। কেননা, 'ক' সরকারটি মন্ত্রিপরিষদ শাসিত এবং ভারত, বাংলাদেশ ও গ্রেট ব্রিটেনে বিদ্যমান ব্যবস্থাটির অনুরূপ, যা সন্দেহাতীতভাবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে নির্দিষ্ট উদাহরণ।যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ থাকে, তাকে সংসদীয় সরকার বলে। এরূপ সরকারের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য হলো- এতে আইন বিভাগের নিকট শাসন বিভাগ জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত শাসনব্যবস্থায় একজন নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন, সরকার পরিচালনার প্রকৃত ক্ষমতা থাকে আইনসভার আস্থাভাজন মন্ত্রিসভার হাতে। প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মন্ত্রিসভার নেতা, সংগঠক ও সরকারপ্রধান। মন্ত্রিসভা যতদিন পর্যন্ত আইনসভা আস্থাভাজন থাকবেন, ততদিন শাসনক্ষমতা পরিচালনা করতে পারবেন। আইনসভার অনাস্থা প্রকাশ পেলে মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করবে। মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য। মন্ত্রিগণ ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে সংসদের নিকট জবাবদিহি করেন। শাসন বিভাগ বা মন্ত্রিসভা জনগণের প্রতিনিধিসভা অর্থাৎ আইনসভার নিকট দায়ী থাকে বলে এ সরকারকে দায়িত্বশীল সরকারও বলা হয়ে থাকে।