উদ্দীপকের উল্লিখিত বিভাগটি হলো সরকারের শাসন বিভাগ। পূর্বে শাসন বিভাগের দায়িত্ব ছিল আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ এবং জাতীয় আয়ের উৎস ও কর নির্ধারণ করা। কিন্তু বর্তমানে গণতান্ত্রিক জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রের কার্যাবলি এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, বাধ্য হয়ে শাসন বিভাগকে বহুবিধ কার্যসম্পাদন করার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হচ্ছে। এর ফলে শাসন বিভাগের কাজ বৃদ্ধি পাচ্ছে।রাষ্ট্রীয় জীবনে জনগণের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শাসন বিভাগ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়। তাই এ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো জনগণের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমস্যা করা। বর্তমানে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যার সমাধান করা একমাত্র শাসন বিভাগের পক্ষেই সম্ভব। বর্তমানে সামাজিক ব্যবস্থার ক্রমোন্নতির কারণে রাষ্ট্রের জনকল্যাণমূলক কার্যাদিও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জনকল্যাণমূলক কার্যাদি সম্পাদন করতে গিয়েও শাসন বিভাগের কাজের পরিসর বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া আইনসভা বিভিন্ন কাজের চাপে অনেক ক্ষেত্রে সময় দিতে পারে না। এ সময়ের অভাবহেতু কিছু কিছু আইন প্রণয়নের ভার শাসন বিভাগের ওপর অর্পণ করে। একে অর্পিত ক্ষমতা বলে আইন প্রণয়ন বলা হয়। একদিকে শাসন অন্যদিকে আইন প্রণয়নের দায়িত্ব শাসন বিভাগের ওপর বর্তানোর ফলে এ বিভাগের কাজ বৃদ্ধি পায়। তাছাড়াও যুদ্ধ, বিদ্রোহ, বিপ্লব প্রভৃতির মতো জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা করে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা একমাত্র শাসন বিভাগেরই আছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে দিন দিন যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অর্থনৈতিক মন্দায় যে জটিল আকার ধারণ করছে এগুলোর হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যও শাসন বিভাগকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হয়।সুতরাং একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, শাসন বিভাগের কাজ ও ক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।