উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারগুলো একই পদ্ধতির সরকারের ভিন্নরূপ-বক্তব্যটি যথার্থ এবং বক্তব্যের অন্তর্নিহিত দিকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারপদ্ধতিসমূহ মূলত গণতান্ত্রিক সরকার। এককেন্দ্রিক বা যুক্তরাষ্ট্রীয়, সংসদীয় বা রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থারই ভিন্নরূপ। ক্ষমতা বণ্টন নীতির ওপর ভিত্তি করে সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রীয় ও এককেন্দ্রিক সরকার এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। সেই দিক দিয়ে বাংলাদেশে ও যুক্তরাষ্ট্রে পর্যায়ক্রমে এককেন্দ্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। এ দুই ধরনের সরকারব্যবস্থায়ই গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা উপস্থিত। প্রশ্নের দ্বিতীয় ধাপে সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। আইন ও শাসন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে বা জবাবদিহিতা নীতির ভিত্তিতে সরকারকে সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইন বিভাগের প্রাধান্য স্বীকার করা হয় এবং রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন আলংকারিক, প্রকৃত ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। সে দিক দিয়ে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। অপরদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতিই রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারপ্রধান। রাষ্ট্রপতি তার কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ নয়।
উপরের বিভিন্ন প্রকার সরকারব্যবস্থা বিশ্লেষণের পর দেখা যায়, সকল সরকারব্যবস্থায়ই গণতন্ত্র বিদ্যমান। আরও সুনির্দিষ্ট করে বলা যায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিকব্যবস্থা বিদ্যমান আছে।
তাই আমরা বলতে পারি, সরকার এককেন্দ্রিক বা যুক্তরাষ্ট্রীয়, সংসদীয় বা রাষ্ট্রপতিশাসিত যাই হোক না কেন মূলত এসব সরকারই গণতান্ত্রিকব্যবস্থার ভিন্ন রূপ।