"উদ্দীপকে সরকারের অঙ্গসমূহের আলাদা আলাদা অবস্থান কাম্য নয়, সম্ভবও নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সরকারের অঙ্গসমূহের মধ্যে ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক মূলনীতি, যা রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গ- আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ-এর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখে। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো একটি বিভাগ যাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা অর্জন করে স্বৈরাচারী না হয়ে ওঠে এবং নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। তবে, ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়, কারণ সরকারের অঙ্গসমূহের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও সমন্বয় অপরিহার্য। কারণ ক্ষমতার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা কার্যকর শাসনের অন্তরায় হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, নির্বাহী বিভাগ যদি আইন প্রণয়নের কোনো ক্ষমতা না পায়, তবে জরুরি প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্বিত হতে পারে। আবার, বিচার বিভাগ যদি নির্বাহী ও আইনসভাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে ক্ষমতার অপব্যবহার বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, আধুনিক গণতন্ত্রে 'নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য' (Checks and Balances) নীতির মাধ্যমে তিনটি অঙ্গ একে অপরের কার্যক্রমকে তদারকি করে এবং সীমার মধ্যে রাখে। উদাহরণস্বরূপ, আইনসভা আইন প্রণয়ন করলেও নির্বাহী বিভাগ তা কার্যকর করে এবং বিচার বিভাগ আইনগত বৈধতা নিশ্চিত করে। যদি এদের মধ্যে কোনো অঙ্গ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায়, তবে স্বেচ্ছাচারিতা বা অকার্যকর প্রশাসনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অতএব, ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতি একেবারে কঠোরভাবে প্রয়োগযোগ্য নয়, বরং এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সমন্বিত প্রক্রিয়া হওয়া উচিত, যাতে রাষ্ট্রের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় এবং নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।