উক্ত বিভাগের তথা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় নানা রকম করণীয় রয়েছে বলে আমি মনে করি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রথমত, আমাকে এমন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করতে হবে, যেখানে বিচারপতিরা দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যোগ্যতাভিত্তিক হয় তা নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারি। তৃতীয়ত, বিচারপতিদের সম্মানজনক বেতন, নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে মতামত জানাতে পারি, যাতে তারা প্রভাবমুক্ত থেকে ন্যায়বিচার করতে পারেন। চতুর্থত, বিচার বিভাগের অপব্যবহার বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দেখা দিলে আমি গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানাতে পারি এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মত প্রকাশ করে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারি। তাছাড়া আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন, রায়কে সম্মান জানানো এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়াও একজন নাগরিক হিসেবে আমার কর্তব্য।
সুতরাং বলা যায়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেবল বিচারপতিদের ওপর নয়, বরং সচেতন ও নৈতিকভাবে দায়িত্ববান নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকার ওপরও নির্ভর করে। এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।