উদ্দীপকের মহাকাব্য বিষয়ক ঘটনাটি সুলতান মাহমুদের মহাকবি আবুল কাসেম ফেরদৌসিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার কথা মনে করিয়ে দেয়।
সুলতান মাহমুদ শুধু একজন জগদ্বিখ্যাত বিজেতাই ছিলেন না, সাহিত্য ও শিল্পের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি নিজে একজন কবি ছিলেন। কুরআন ও হাদিস শাস্ত্রে তার গভীর জ্ঞান ছিল। তিনি তাফসিরুল ফুরু নামে ফিকাহ শাস্ত্রের ওপর মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন। এছাড়াও তিনি কবি-সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তারই পৃষ্ঠপোষকতায় মহাকবি ফেরদৌসি শাহনামা মহাকাব্য রচনা করেন।
উদ্দীপকের কুবলাই খানের কর্মে সুলতান মাহমুদের চিত্র ফুটে উঠেছে। সুলতান মাহমুদ ছিলেন শিল্প-সাহিত্যের সমঝদার একজন শাসক। তিনি চারশর অধিক কবি, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক, বিজ্ঞানী প্রমুখের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তার সময় 'প্রাচ্যের হোমার' নামে খ্যাত এবং জামানার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ফেরদৌসি 'শাহনামা' রচনা করে সুলতানের নামকে অমর করে রেখেছেন। 'শাহনামা' রচিত হওয়ার পর সুলতান মাহমুদ কবিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। আয়াজ নামক জনৈক প্রিয়পাত্রের প্ররোচনায় সুলতান মহাকবিকে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ৬০,০০০ স্বর্ণমুদ্রার পরিবর্তে ৬০,০০০ রৌপ্যমুদ্রা দিতে চান। এতে কবি ক্ষুব্ধ হয়ে সুলতানের প্রতি কটাক্ষপূর্ণ একটি ব্যঙ্গ কবিতা রচনা করেন এবং চিরকালের জন্য পজনি ত্যাগ করে তার স্বদেশ খোরাসানের তুস নগরে চলে যান। কৃতকার্যের জন্য অনুতপ্ত হয়ে সুলতান মাহমুদ কবিকে যখন ৬০,০০০ স্বর্ণমুদ্রা প্রেরণ করেন, তখন তার মৃতদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সুতরাং, বলা যায়, উদ্দীপকের মহাকাব্য বিষয়ক ঘটনায় সুলতান মাহমুদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।