জনাব আলতাফের সাথে ঘুরি রাজবংশের শাসক মুহাম্মদ ঘুরির তরাইনের দ্বিতীয় অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে।
'মুহাম্মদ ঘুরির উদ্দেশ্য ছিল ভারতবর্ষে স্থায়ী মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। এ উদ্দেশ্যে তিনি সিন্ধু, মুলতান ও পাঞ্জাব অধিকার করে দিল্লি ও আজমিরের শাসক পৃথ্বিরাজের মুখোমুখি হোন। এ পর্যায়ে তিনি যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন উদ্দীপকের অভিযানের মাধ্যমে তার প্রতিই ইঙ্গিত করে।
জনাব আলতাফ অনেকগুলো অঞ্চল বিজয় করেন। তার উদ্দেশ্য একটি স্থায়ী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা, যার দরুন তার সৈন্যরা প্রতিপক্ষের বহু সৈন্য ও রাজন্যবর্গকে হত্যা করেছিলেন। ফলে প্রতিপক্ষ আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি। অনুরূপভাবে মুহাম্মদ ঘুরির ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যায় । ১১৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ভাতিন্দা দখল করে মুহাম্মদ ঘুরি চৌহান রাজের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলে তাকে মোকাবিলার উদ্দেশ্যে পৃথ্বিরাজ উত্তর ভারতের হিন্দু রাজাদের সমন্বয়ে একটি 'কনফেডারেসি' বা ঐক্যজোট গঠন করেন। ফলে তাদের এ সম্মিলিত বাহিনীর কাছে মুহাম্মদ ঘুরি পরাজিত হোন । তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পরাজয়ের গ্লানি মুহাম্মদ ঘুরিকে প্রতিশোধ স্পৃহায় উজ্জীবিত করে। এ অবস্থায় ১১৯২ সালে ১,২০,০০০ সৈন্যের এক বিশাল কাহিনী নিয়ে তিনি পুনরায় যুদ্ধ যাত্রা করেন। মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলায় পৃথ্বিরাজ তিন লক্ষ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী সংগঠিত করেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় দেড়শত রাজপুত রাজা পৃথ্বিরাজের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিলেন বলে ঈশ্বরী প্রাসাদ উল্লেখ করেছেন। তরাইনের প্রান্তরে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হয়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও মুহাম্মদ ঘুরির উন্নত রণকৌশলের কাছে সম্মিলিত রাজপুত বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় রাজা পৃথ্বিরাজ ধরা পড়েন ও পড়ে নিহত হোন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অভিযানের সাথে মুহাম্মদ ঘুরির তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ সামঞ্জস্যপূর্ণ।