সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের মাধ্যমে আরবরা ভারতীয়দের ধর্মীয়, সামাজিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল ।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, অটোমান সুলতানদের বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল দখলের মাধ্যমে ইউরোপে মুসলিম সভ্যতার বিকাশ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের পথ সুগম হয়। একইভাবে আরবদের সিন্ধু ও মুলতান দখলের ফলে এ অঞ্চলের ধর্ম-সংস্কৃতিসহ সকল ক্ষেত্রে মুসলমানদের প্রভাব পড়ে ।
মুসলমানদের সিন্ধু ও মুলতান দখলের মাধ্যমে ভারতবর্ষে বহু আরব বণিক ও ধর্মপ্রচারকদের আগমন ঘটে। অনেক সুফি-দরবেশের উপস্থিতির ফলে এ অঞ্চল শান্তি ও সমৃদ্ধির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। তাদের প্রচারিত ইসলামের শাশ্বত বাণী এবং সাম্য, মৈত্রী, সহিষ্ণুতা ও উদারতার নীতি বর্ণপ্রথার কঠিন নিগড়ে নির্যাতিত হিন্দু সম্প্রদায়কে আকৃষ্ট করে। ফলে তারা বিপুল সংখ্যায় ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়। আবার আরবদের সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের ফলে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে তাদের বাণিজ্যিক লেনদেন আরও ব্যাপক হয়। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া উপকূলে আরবদের সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়, যা তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখে। এ বিজয়ের ফলে এ অঞ্চলের সামাজিক ক্ষেত্রেও অনেক পরিবর্তন আসে। আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ফলে মুসলমানগণ হিন্দুদের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসে এবং সিন্ধুবাসীর জীবনে অনেক আরবীয় বৈশিষ্ট্যের প্রভাব পড়ে। তাদের মধ্যে আন্তঃবিবাহের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফলে আর্য ও সেমিটিক জাতির সংমিশ্রণে ভারতে এক নতুন জাতির উদ্ভব ঘটে । আর এ জাতিই প্রকৃতপক্ষে ইন্দো-সারাসেনীয় সভ্যতা ও কৃষ্টির ধারক ও বাহক হিসেবে ইতিহাসে খ্যাতি অর্জন করে ।
উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ফলে এ অঞ্চলের ধর্মীয়, বাণিজ্যিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে মুসলমানদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে সার্বিক ক্ষেত্রে মুসলিম রীতিনীতি ও সংস্কৃতির প্রভাব লক্ষ করা যায় ।