উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসক তৈমুর লঙ-এর এশিয়া অভিযানের কারণের সাথে ভারত আক্রমণকারী সুলতান মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরির মিল রয়েছে।
মুহাম্মদ ঘুরি তৃতীয় পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করে ভারতে স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার অভিযানের সময় ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অবস্থা সন্তোষজনক ছিল না। দ্বন্দ্ব-সংঘাত, রাজনৈতিক অনৈক্য দেশটিকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। এ বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগ নিয়ে মুহাম্মদ ঘুরি ভারতে অভিযান চালান এবং সফল হন, যেমনটি উদ্দীপকের অভিযানের ক্ষেত্রে দেখা যায় ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ট্রান্স অক্সিয়ানার চাগতাই তুর্কি শাসক তৈমুর লঙ এর রাজ্য বিজয়ের মধ্যে এশিয়া অভিযান একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মধ্য এশিয়ার রাজনৈতিক গোলযোগ তাকে এ অভিযানে আগ্রহী করে তোলে । এ সময় এশিয়াতে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের উদ্ভব ঘটে এবং তারা পরস্পর কলহে লিপ্ত থাকত। মুহাম্মদ ঘুরির আক্রমণের প্রাক্কালেও ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজমান ছিল। তখন সমগ্র ভারতে বেশকিছু ক্ষুদ্র রাজ্যের উদ্ভব ঘটে। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিম ভারতে তিনটি মুসলিম ও বেশ কয়েকটি রাজপুত রাজ্যের উপস্থিতি দেখা যায়। সে সময় ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতায় ছিল আজমির ও সম্ভরে চৌহান, মালবে পরমার, চেঁদিতে কালাচুর, বুন্দেলখণ্ডে চান্দেলা, গুজরাটে চালুক্য, কনৌজে গরওয়াল, মগধে পাল ও বাংলায় সেন বংশ। মুহাম্মদ ঘুরির আক্রমণকালে পাঞ্জাব গজনি বংশের শাসক খসরু মালিকের শাসনাধীনে ছিল। ইন্দ্রিয়পরায়ণ ও অকর্মণ্য খসরু মালিককে পরাজিত করে মুহাম্মদ ঘুরি পাঞ্জাব জয় করেন। তখন দিল্লি ও আজমির ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী রাজ্য। রাজপুত চৌহান রাজবংশ দিল্লি ও আজমির শাসন করত। ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে চৌহান রাজা পৃথ্বিরাজকে পরাজিত করে মুহাম্মদ ঘুরি ভারতে স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করেন । সুতরাং বলা যায় তৈমুর লঙ এর অভিযানের কারণের সাথে মুহাম্মদ ঘুরির অভিযানের মিল রয়েছে ।