উদ্দীপকে উল্লিখিত চার্চগুলোতে বহিঃশত্র কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটির সাথে আমার পঠিত সুলতান মাহমুদের সোমনাথ মন্দির অভিযানের মিল রয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-উদ্দীপকে বলা হয়েছে , মধ্যযুগে ধর্মাশ্রিত ইউরোপের চার্চগুলো পুরোহিত দ্বারা পরিচালিত হতো এবং এগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতাশালী ছিল। সাধারণ মানুষ সেখানে অর্থ জমা রাখত। আর এ গচ্ছিত সম্পদের কারণে তারা বহিঃশত্রু দ্বারা আক্রান্ত হতো। এ চার্চগুলোর বহিঃশত্রর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সাথে সুলতান মাহমুদ কর্তৃক সোমনাথ মন্দির অভিযানের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। গুজরাটের কাথিওয়াড়ের সমুদ্র উপকূলে সোমনাথ মন্দির অবস্থিত। মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ছিল সুশোভিত। এ মন্দিরের খরচ নির্বাহের জন্য হিন্দু রাজন্যবর্গ দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে দশ হাজার গ্রাম দান করেন। ১০২৩ খ্রিষ্টাব্দে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সুলতান মাহমুদ প্রশিক্ষিত একটি বাহিনী নিয়ে যাত্রা শুরু করেন এবং ১০২৪ খ্রিষ্টাব্দের মার্চের শুরুতে সোমনাথ প্রান্তরে পৌঁছেন। ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদের মতে, ৪১৬-৪১৭ হিজরি মোতাবেক ১০২৫-২৬ খ্রিষ্টাব্দে সোমনাথের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। মুলতান ও রাজপুতনার দুর্গম ও বিপদসঙ্কুল পথ অতিক্রম করে সুলতান মাহমুদ ১০২৬ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি মাসে সোমনাথ মন্দিরে পৌঁছেন। গুজরাটের রাজা ভীমদেব ও অন্যান্য হিন্দু রাজন্যবর্গ সোমনাথ মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার্থে এগিয়ে আসেন। কিন্তু মুসলমানদের অদম্য সাহস, যুদ্ধস্পৃহা, তেজস্বিতা ও কৌশলের নিকট হিন্দুদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ১০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি সোমনাথ মন্দির মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ঈশ্বরী প্রসাদের মতে, ৫,০০০ হিন্দু সোমনাথ মন্দির রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়। সুলতান মাহমুদ সোমনাথ, মন্দির হতে দুই কোটি দিনার, মণি-মানিক্য, হীরা- জহরত ও প্রচুর ধনসম্পদ লাভ করেন।তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত চার্চগুলোতে বহিঃশত্রুর আক্রমণের সাথে সুলতান মাহমুদের সোমনাথ মন্দির অভিযানের মিল রয়েছে।