উদ্দীপকে সূর্যদেবতার মন্দির আক্রমণের সাথে সুলতান মাহমুদের ষোড়শ অভিযান তথা সোমনাথ মন্দির অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, আফ্রিকার উপজাতি সূর্য দেবতার একটি মন্দিরকে নিরাপদ ও শক্তির আধার মনে করেন সেখানে সকল সম্পদ জমা করে রাখে। কিন্তু এ সম্পদের বিষয়ে ইউরোপীয় একটি অভিযাত্রী দল জেনে যায় এবং তারা নিজ দেশকে সাজাতে অর্থ সংগ্রহের জন্য মন্দিরটি আক্রমণ করে। উল্লিখিত ঘটনাটি সুলতান মাহমুদের সোমনাথ মন্দির অভিযানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম দুঃসাহসিক সামরিক অভিযান ছিল সোমনাথ মন্দিরের বিরুদ্ধে অভিযান। গুজরাটের কাথিওয়াড়ের সমুদ্র উপকূলে সোমনাথ মন্দির অবস্থিত। মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ছিল সুশোভিত। এ মন্দিরের খরচ নির্বাহের জন্য হিন্দু রাজন্যবর্গ দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে দশ হাজার গ্রাম দান করেন। ১০২৩ খ্রিষ্টাব্দে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সুলতান মাহমুদ প্রশিক্ষিত একটি বাহিনী নিয়ে যাত্রা শুরু করেন এবং ১০২৪ খ্রিষ্টাব্দের মার্চের শুরুতে সোমনাথ - মন্দিরে পৌছেন। ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদের মতে, ৪১৬-৪১৭ হিজরি মোতাবেক ১০২৫-২৬ খ্রিষ্টাব্দে সোমনাথের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। মূলতান ও রাজপুতনার দুর্গম ও বিপদসঙ্কুল পথ অতিক্রম করে সুলতান মাহমুদ ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দে জানুয়ারি মাসে সোমনাথ মন্দিরে পৌঁছেন। গুজরাটের রাজা ভীমদেব- ও অন্যান্য হিন্দু রাজন্যবর্গ সোমনাথ মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার্থে। এগিয়ে আসেন। কিন্তু মুসলমানদের অদম্য সাহস, যুদ্ধস্পৃহা,তেজস্বিতা ও কৌশলের নিকট হিন্দুদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ১০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি সোমনাথ মন্দির মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ঈশ্বরী প্রাসাদের মতে, ৫,০০০ হিন্দু সোমনাথ মন্দির রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়। সুলতান মাহমুদ সোমনাথ মন্দির হতে দুই কোটি দিনার, মণি-মানিক্য, হীরা-জহরত ও প্রচুর ধনসম্পদ লাভ করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সূর্যদেবতার মন্দির আক্রমণ সোমনাথ মন্দিরে অভিযানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।