উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সিন্ধু বিজয়ের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। নিচে এর ফলাফল বিশ্লেষণ করা হলো-আরবদের সিন্ধু বিজয় ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি, তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ বিজয়ের পর মুসলমানরা ১৫০ বছর সিন্ধু শাসন করে। এ দীর্ঘসময় অবস্থানের পরেও সিন্ধু বিজয়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব খুব বেশি না হলেও সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম। সিন্ধু বিজয়ের ফলাফল সম্পর্কে ঐতিহাসিক স্টেনলি লেনপুল বলেন, "ভারতবর্ষ ও ইসলামের ইতিহাসে আরবদের সিন্ধু বিজয় একটি উপাখ্যান মাত্র, এটি একটি নিষ্ফল বিজয়। প্রকৃতপক্ষে আরবদের সিন্ধু বিজয় নিষ্ফল বিজয় নয়। কেননা মুসলমানরা সিন্ধুতে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলেও এ বিজয় ছিল পরবর্তী ভারত অভিযানে মুসলমানদের অনুপ্রেরণার মূল উৎস। এ বিজয়ে অনুপ্রাণিত হয়েই মুসলমানগণ ভারতে ইসলামের পতাকা উত্তোলন ও সালতানাত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। তাছাড়া সিন্ধু বিজয়ের ফলে ধর্মীয় ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে। ইসলামের সংস্পর্শে এসে অনেক হিন্দু ইসলাম গ্রহণ করে এবং অনেক ধর্মপ্রচারক সুফি, দরবেশ, পীর, আউলিয়া ভারতে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। তাছাড়া সিন্ধু বিজয়ের ফলে হিন্দু-মুসলিম, আরব-ভারতীয় সর্বোপরি আর্য-সেমেটিক জাতির সংমিশ্রণ ঘটে এবং উভয়ের মাঝে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তবে আরবদের সিন্টু বিজয় সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে। ঈশ্বরী প্রসাদের ভাষায় মুসলিম সংস্কৃতির ওপর এ বিজয়ের ফলাফল ছিল গভীর ও সুদূরপ্রসারী।তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মুসলমানদের সিন্ধু বিজয়ের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তাছাড়া এ বিজয়ের - প্রেরণাতেই মুসলমানগণ ভারত অভিযান করে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করে।