"উদ্দীপকের দ্বিতীয় যুদ্ধ অথ্যাৎ তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকারী যুদ্ধ " মন্তব্যটি যথার্থ। নিচে তা বর্ণনা করা হলো : ভরতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ 'এক যুগান্তকারী ঘটনা '।এই বিজয়ের পথ ধরেই মুহাম্মদ ঘুরির ভারতে স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথ সুনির্দিষ্ট হয়। যা আমরা উদ্দীপকেও দেখতে পাই। উদ্দীপকের দ্বিতীয় যুদ্ধে সুলতান নাসিরউদ্দিনের প্রতিপক্ষ দলের সৈন্য সংখ্যা অধিক হওয়া স্বত্তেও তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজয় করতে সক্ষম হন। তিনি বিজয়ের গৌরব অর্জন করেন এবং স্থায়ী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। একইভাবে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ 'এক যুগান্তকারী ঘটনা '। ভি.এ.স্মিথের মতে, "১১৯২ খ্রিস্টাব্দে সংগঠিত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধকে চূড়ান্ত সংঘর্ষ হিসাবে গণ্য করা যায়, যা হিন্দুস্থানের ওপর মুসলিম আধিপত্যের চরম সাফল্যের সূচনা "। এ.বি.এম হাবিবুল্লাহ বলেন, " মুইজউদ্দিনের এই বিজয় কোনো বিক্ষিপ্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিজয় কিংবা দৈব ঘটনা ছিল না। একদিকে এই বিজয় ছিল একজন দৃঢ়সংকল্প বিজেতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং অপরদিকে ছিল পূর্ণ দ্বাদশ শতাব্দী ধরে বিস্তৃত একটি ধারার সফল পরিণতি। " বস্তুত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে রাজপুতদের রাজনৈতিক শক্তি খর্ব হয় এবং তারা মুসলিমদের প্রতিরোধ করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। ফলে ভারতীয় রাজ্যগুলোর ওপর মুহাম্মদ ঘুরির চূড়ান্ত কর্তৃত্ব সুনিশ্চিত হয় এবং উত্তর ভারতে দিল্লি পর্যন্ত সব শহরের তরোণ তার জন্য উন্মোচিত হয় বিজয়ী মুহাম্মদ ঘুরি অনায়াসে সামানা, সিরসুত, কুহরাম ও হান্সি দখল করেন।আনুগত্য প্রকাশ এবং নিয়মিত কর প্রদানের শর্তে আজমিরের শাসনভার পৃথ্বীরাজের পুত্র গোলার ওপর ন্যস্ত করা হয়। অবশেষে সবকিছু বিবেচনা করে বলা যায় যে, "উদ্দীপকের দ্বিতীয় যুদ্ধ অথ্যাৎ তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল এক চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকারী যুদ্ধ "।