"উক্ত শাসক শুধু সেনানায়কই ছিলেন না- একটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন"। উক্ত শাসক ছিলেন কৃতী সমরনেতা ও সাহসী বীর গজনী সুলতান মাহমুদ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো : সুলতান মাহমুদ ছিলেন একজন কৃতী সমরনেতা ও সাহসী বীর। সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা হিসাবেও তিনি অনেক খ্যাতি অর্জন করেন।সুলতান মাহমুদের লক্ষ্য ছিলো, শত্রুর অধীন থেকে রাজ্য উদ্ধার ও চিরন্তন বিজয় লাভ করা।তাঁর লক্ষ্য তিনি পূরণ করেছেন। তিনি পাঞ্জাব জয় করে সেখানে সুদৃঢ় সাম্রাজ্যও প্রতিষ্ঠা করেছেন। সামান্য গজনীও তার নেতৃত্বে বিশাল সাম্রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুলতান মাহমুদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার অনেক খ্যাতি ইতিহাসে রয়েছে। ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, "সুলতান মাহমুদ ছিলেন বড় মাপের নৃপতি। একটি পার্বত্য ক্ষুদ্র রাজ্যকে শুধু বাহুবলে বিশাল ও সমৃদ্ধ সাম্রাজ্যে পরিণত করা অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচায়ক "।আরব-তুর্কি শাসকদের মধ্যে তিনিই প্রথম শাসক, যিনি হিরাত, কাবুল ও গজনীর সীমা অতিক্রম করে সমস্ত আফগানিস্তানের উপর কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি যে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, তা বাগদাদের সমসাময়িক আব্বাসি খলীফার সাম্রাজ্য অপেক্ষা বিশাল ছিল বলে মনে করা হয়। ভারতবর্ষে প্রথম মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার গৌরব তিনি অর্জন করতে পারেননি সত্য, তবে উত্তরসূরী ঘুরি শাসকদের জন্য ভারতে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথপ্রদর্শকের কৃতিত্ব তাকেই দিতে হবে। অবশেষে বলা যায়," সুলতান মাহমুদ শুধু একজন সেনাই ছিলেন না, একজন রাজ্য প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন"। উপরে তা বিশ্লেষণ করা হলো।