"উদ্দীপকের সুলতানের মতো সুলতান মাহমুদ ও একই উদ্দেশ্যে সম্পদ সংগ্রহ করেন।" নিম্নে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো:উদ্দীপকের অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান অরখান সম্পদ অর্জনের জন্য বিভিন্ন রাজ্যে আক্রমণ করতেন। অত্যাধিক সম্পদের খবর পেয়ে একটি দ্বীপের অত্যন্ত সুরক্ষিত উপাসনালয়ে আক্রমণ করতে ও পিছ পা হন নি। সুলতান অরখান নিজের দেশের উন্নয়নের জন্য এবং নিজের দেশকে সৌন্দর্যমন্ডিত করতে এসব অর্জিত সম্পদ ব্যয় করতেন। পাশাপাশি তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নের সাধনের জন্য এবং স্থাপত্য শিল্পের অগ্রগতির জন্য পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। অর্থাৎ জ্ঞান-বিজ্ঞানের নিত্য নতুন সব আবিষ্কারের জন্য তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেন।সুলতান মাহমুদ ছিলেন উচ্চাভিলাষী যোদ্ধা। কিছু ইতিহাসবিদদের মতে তিনি ভারতবর্ষের ধন-সম্পদের লোভে এখানে বারবার অভিযান পরিচালনা করেন। তার সদ্য প্রতিষ্ঠিত গজনী রাজ্যকে সুদৃঢ়, সমৃদ্ধশালী, সুসজ্জিত করার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন ছিলো। তাছাড়া রাজ্যে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য তিনি বিভিন্ন রাজ্য আক্রমণ করে ধন-সম্পদ অর্জন শুরু করেন। এই ধন-সম্পদ তিনি গজনীর উন্নয়নে ব্যয় করেন। ভারতবর্ষের ধন-সম্পদের মাধ্যমে ইতিহাসে গজনী প্রসিদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়। পাশাপাশি সুলতান মাহমুদ শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞান - বিজ্ঞানের উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। কোন রকম কার্পণ্য না করে তিনি বিদ্বান ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। সেসময়কার বহু বিদ্বান ও জ্ঞানী ব্যাক্তি তার দরবারে সমাদৃত হয়েছিলেন। আল বিরুনী, আল ফারাবি, উৎবি, বায়হাকির মতো বিদ্বান ও জ্ঞানী ব্যাক্তিরা ছিলেন সুলতান মাহমুদের দরবারের নক্ষত্র। অনেকে মনে করেন সুলতান মাহমুদ নিজেও একজন পন্ডিত ছিলেন।তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের সুলতান এবং সুলতান মাহমুদ একই উদ্দেশ্যে সম্পদ সংগ্রহ করেন" উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।