ইতিহাসে মুহাম্মদ ঘুরী কেবল বিজেতা হিসেবেই নয়, সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও অমর হয়ে আছেন।
মুহাম্মদ ঘুরী নিজ দক্ষতায় গজনি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর ঘুর সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। অদম্য সাহস, অসীম ধৈর্য এবং অভিনব ও উন্নত যুদ্ধ কৌশল অবলম্বন করে তিনি আফগানিস্তান থেকে বাংলা পর্যন্ত একটি সুবৃহৎ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত অভিযান ও রাজ্যবিস্তার তার পূর্ব পরিকল্পনাপ্রসূত ছিল। কারণ তিনি স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য স্থাপনের উদ্দেশ্যেই ভারতমুখে অগ্রসর হয়েছিলেন।
বস্তুত ঘুরীর ভারত অভিযানের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ভারতে মুসলিম রাজ্য বিজয় এবং রাজত্বকালের সূচনা হয়। ঘুরীর আক্রমণের ফলেই উত্তর ভারতের এক বিস্তীর্ণ অংশে মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেককে বিজিত অঞ্চলের শাসক নিযুক্ত করে তিনি এ সব অঞ্চলে মুসলিম সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব সুনিশ্চিত করেন। কুতুবউদ্দিন ভারতে যে মুসলিম সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন, তা প্রায় ৭০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। তাই ভারত উপমহাদেশে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় ঘুরীর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। তাকেই ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয় যে, মুহাম্মদ ঘুরী ভারতীয় হিন্দু রাজাগণকে পরাভূত করে ভারতের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলেন।