উদ্দীপকে বর্ণিত ছাতক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের অভিযানের সাথে আরবদের সিন্দু অভিযানের মিল রয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো। উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালেকের (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) খিলাফত লাভের পর মুসলিম সাম্রাজ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। সেনাপতি কুতায়বা বিন মুসলিমের প্রচেষ্টায় মধ্য এশিয়া ইসলামের বিজয় পতাকা উত্তোলিত হয়। প্রায় একই সময় পূর্বাঞ্চলের শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সিন্ধু অভিযানের জন্য মোহাম্মদ বিন কাসিমকে প্রেরণা যোগায়। প্রেরণায় উৎসাহিত হয়ে মুহাম্মদ বিন কাসিম আরবদের নিয়ে ভারতে ৭১২ খ্রিস্টাব্দে সিন্দু অভিযান পরিচালনা করেন। উদ্দীপকে এই ঘটনারই ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপক বালা হয়েছে,ছাতক ও ভোলাগেঞ্জ চলাচলকারী পাথরবাহি নৌকাগুলো ডাকুয়াবিল এলাকায় প্রায় ডাকাতদের হাতে লুন্ঠিত হয়। এতে ছাতকের পাথর ব্যবসায়ীরা ছাতক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডাকুয়াবিল এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে জড়িতদের শাস্তি দাবী করেন। কিন্তু কোন প্রতিকার না পেয়ে তিনি পুলিশের সহায়তায় ডাকাতদের উপর আক্রমণ করেন। আরব সিন্ধু অভিযানেও এমনটি প্রতিফলিত হয়। জানা যায, সিংহলের (বর্তমান শ্রীলংকার) রাজা আটটি উপঢৌকনপূর্ণ জাহাজ খলিফা ওয়ালিদ ও হাজ্জাজের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। কোন কোন ঐতিহাসিক এর মত, সিংহলের বাণিজ্যরত নিহত আরব বণিকদের পরিবার-পরিজনও সে জাহাজগুলোতে ছিল। যাত্রাপথে জাহাজগুলো সিদ্ধুর দেবল বন্দরে উপস্থিত হলে সেগুলো জলদস্যুরা লুট করে। হাজ্জাজ রাজা দাহিরের কাছে এর প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করলে দাহির সে দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। দাহিরের উদ্ধত আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সিন্ধু ও মুলতান অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি প্রাক-সালানাত যুগে আরবদের সিন্ধু অভিযানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।